প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৮ ০৯:২৬:০৮
পথশিশুদের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদে পরিণত করা প্রয়োজন
বাংলাদেশ বাণী, ঢাকা : আমাদের দেশের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় শিশুরা কতভাবে যে নিগৃহীত ও অধিকার বঞ্চিত হয়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। শহর থেকে শুরু করে গ্রামের নির্ভৃতে এবং ধনী-মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত পরিবার সবখানেই শিশুরা মুক্ত পরিবেশে কমই বেড়ে উঠতে পারছে। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমগুলোতে শিশুর প্রতি নৃশংসতার নানা কাহিনি প্রকাশিত হয়। যা আমাদের মর্মাহত করে। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পথেঘাটে আমরা একশ্রেণীর শিশুর দেখা পাই যাদের ঘর নেই, নেই স্বজন! অনাহারে-অনাদরে এরা বেড়ে ওঠে। মানুষের কাছে হাত পেতে, পলিথিন, প্লাস্টিক কুড়িয়ে জীবন চলে তাদের। স্টেশনের প্ল্যাটফরম কিংবা রাস্তার ফুটপাতই তাদের আশ্রয়স্থল।

পথের এসব শিশু এখন যেন পথেও থাকতে পারছে না। উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে টোকাই শিশুদের আটক করা হচ্ছে। কিন্তু এসব শিশুকে আটক করে যে অবস্থায় রাখা হয়, তা শিশুবান্ধব না হওয়ায় বাস্তবে ভালো ফল আসছে না।

তিলোত্তমা নগরীর পথে-প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা এসব শিশু টোকাই নামেই সমধিক পরিচিত, যদিও এদের আরেক নাম পথশিশু। পথেই যাদের বাড়িঘর, পথেই ঠিকানা। পুলিশের ভাষ্য থেকে জানা যায়, ভিক্ষাবৃত্তি, বিদেশি নাগরিকদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতা, নেশাগ্রস্ত হওয়া, চুরি-ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলো থেকে এসব পথশিশু বা টোকাইকে প্রায়ই আটক করা হচ্ছে।

উন্নত পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এসব পথশিশু বা টোকাইকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় সরকারি শিশু পল্লীতে। জানা যায়, কিছুদিন বা মাসখানেক সেখানে তারা থাকতে পারছে, খেয়ে পরে দিন কাটাতেও পারছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফল সেই অন্তঃসারশূন্য। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে স্থায়ী সুফল বয়ে আনছে না। বরং বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছে এসব শিশু।

শিশু হিসেবে মৌলিক কিছু অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে তারা। ফলে তারা ছাড়া পেয়েই আগের মতো একই কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সময় মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। আবার বিভিন্ন চক্রের খপ্পরে পড়ে একশ্রেণীর টোকাই শিশু জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ভয়ংকর অপরাধেও জড়িয়ে যাচ্ছে বলে প্রকাশ।

শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। এদের বেড়ে ওঠা কণ্টকমুক্ত হওয়া উচিত। বেদনাদায়ক ঘটনা হলো, আমাদের সমাজে অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে পড়ছে। তিলোত্তমা নগরীর উন্নত পরিবেশ গড়ে তুলতে এরা ক্ষত হিসেবে পরিগণিত হয়। অথচ এই শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারলে, শহর হয়ে উঠবে আরও উচ্ছ্বল ও মানবিক। পথে নয় শিশুদের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হোক।

উন্নত পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে টোকাই শিশুদের আটক করার প্রয়োজন হলে, তাদের জন্য অবশ্যই ড্রপিন সেন্টার প্রয়োজন। এ জাতীয় শিশুর জন্য সরকারকে আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে। তাদের যেখানেই রাখা হোক, সেখানে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষাসহ সব মৌলিক অধিকার দিতে হবে। এসব শিশুর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

কারিগরি শিক্ষা ও মানবিক শিক্ষায় তাদের শিক্ষিত করা গেলে, তারাই দেশের সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। আশা করা যায়, পথশিশুদের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।
সর্বশেষ সংবাদ
  • ২১ আগষ্টসহ বার বার এই দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল ওরা...!২১ আগষ্টের জড়িতরা এখন কোথায়? বর্বরতম গ্রেনেড হামলার দিন পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রাসাদে ঘুমাচ্ছেন নাফ সিমান্তের অধরা ইয়াবা গডফাদাররা !রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধা
  • ২১ আগষ্টসহ বার বার এই দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল ওরা...!২১ আগষ্টের জড়িতরা এখন কোথায়? বর্বরতম গ্রেনেড হামলার দিন পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রাসাদে ঘুমাচ্ছেন নাফ সিমান্তের অধরা ইয়াবা গডফাদাররা !রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধা
উপরে