প্রকাশ : ০৭ মার্চ, ২০১৮ ০৩:০৯:০১
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ : বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র
বাংলাদেশ বাণী, ঢাকা  : আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ । বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য একটি দিন। সুদীর্ঘকালের আপোসহীন আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
 
এই ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এবছর উজ্জীবিত জাতি ভিন্নমাত্রায় দিবসটি উদযাপন করবে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতিতে বাংলাদেশের মানুষের গৌরব ও সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 
এর আগে ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি গত আড়াই হাজার বছরে মধ্যে সবচেয়ে জোরালো এবং যুদ্ধকালীন অনুপ্রেরণাদায়ী ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে একটি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ড বইটির প্রণেতা। এতে উইনস্টন চার্চিল, আব্রাহাম লিঙ্কন এবং মাও সেতুংসহ অনেক বিশ্ব নেতার ঐতিহাসিক ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
 
এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে জাতির পিতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
 
একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে।
 
এই উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠন এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
 
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং জাতীয় পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
 
১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
 
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
 
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারী স্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত পত করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। লক্ষ শপথের বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে।
 
জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম..., এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
 
মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকান্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।
 
বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দু’টি বাক্য, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা’।
সর্বশেষ সংবাদ
  • ২১ আগষ্টসহ বার বার এই দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল ওরা...!২১ আগষ্টের জড়িতরা এখন কোথায়? বর্বরতম গ্রেনেড হামলার দিন পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রাসাদে ঘুমাচ্ছেন নাফ সিমান্তের অধরা ইয়াবা গডফাদাররা !রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধা
  • ২১ আগষ্টসহ বার বার এই দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল ওরা...!২১ আগষ্টের জড়িতরা এখন কোথায়? বর্বরতম গ্রেনেড হামলার দিন পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রাসাদে ঘুমাচ্ছেন নাফ সিমান্তের অধরা ইয়াবা গডফাদাররা !রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত টিম এখন ঢাকায়বিএনপি-জামায়তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধুর জন্য জাতিসংঘে সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসক্রস ফায়ারের মাঝেও মানব পাচার! থেমে নেই অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসারোববার কবি শামসুর রাহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীঢাকা-দিল্লীর সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় : বাংলাদেশ হাইকমিশনারছয় বছর বয়সেই ইসি'র স্মার্টকার্ডবঙ্গবন্ধু বাংলার ইতিহাস : স্বাধীনতা বাঙ্গালীর সোনালী অর্জন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল : প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : আইনমন্ত্রী২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঙালীর বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতির জনক মাশরাফির অবসর নিয়ে দু'দিনের মধ্যেই আলোচনায় বসবে বিসিবিটুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনবঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : ওবায়দুল কাদেরবঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে ‘কমিশন’ গঠনের দাবি জানালেন তথ্যমন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের জনতার বিনম্র শ্রদ্ধা
উপরে